Breaking News

না বলা সেই কথা ♥♥♥

না বলা সেই কথা ♥♥

মেয়ে-হায়।
ছেলে-হ্যালো।
মেয়ে-কেমন আছেন?
ছেলে-জী ভালো। আপনি?
মেয়ে-হুম ভালো।
.
♦এভাবেই প্রতিদিন ফেইছবুকে একটু-আকটু চ্যাট হয় আবির ও নিলীমার।

♦আবির একদম শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের ছেলে। সে প্রয়োজনেরর বাহিরে কোনো কথাই বলেনা। সে অকারনে কাউকে মেসেজও দেয়না। নিলীমাই নিজে থেকে তাকে মেসেজ দেয়।

♦আজ আবার নিলীমার মেসেজ,
-হায়। (নিলীমা)
-হ্যালো। (আবির)
-কী করেন?
-কিছুনা।
-আপনে এমন কেনো?
-কেমন?
-আচ্ছা আপনেকি কাউকে পছন্দ করেন?
-হা।
-তাই,,,কাকে?
-সবাইকে।
-সবাইকে মানে?
-আমি সবাইকে পছন্দ করি।
-উফ....! (বিরক্তিকর ভাবে)

♦এভাবেই একটু একটু করে নিলীমা ভালোবেসে ফেলে আবিরকে। কিন্তু আবিরকে সেটা বলার মতো সাহস এবং পরিস্থিতি খুজে পাচ্ছেনা নিলীমা।

♦তারপর থেকে নিলীমা আবিরের সকল ডিটেইল্স বের করে এবং জানতে পারে আবির ঢাকা সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আর নিলীমাদের বাসা ভার্সিটি থেকে বেশী একটা দূরে ছিলনা। তাই সে প্রতিদিনই দূর থেকে আবিরকে দেখতো। আবিরের চাল-চলন,কথা বার্তা দেখে নিলীমা মুগ্ধ হয়ে যায় এবং আরো বেশী ভালোবেসে ফেলে আবিরকে। যেই ভালোবাসা দিয়ে নিলীমা একটু একটু করে আশার জাল বুনতে থাকে আবিরকে নিয়ে।

♦তারপর হঠাত একদিন নিলীমা সিদ্বান্ত নেয় সে আবিরকে তার ভালোবাসার কথা বলেই ফেলবে। তাই সে আবিরের ফোন নাম্বার জোগাড় করে আবিরকে ফোন করে বলে বিকেল চারটায় একটি রেষ্টুরেন্টে আসতে। আবিরও তেমন আপত্তি করেনি।

♦বিকেল চারটা।
নিলীমা রেষ্টুরেন্টের বাহিরে দাড়িয়ে আছে রাস্তার দিকে চেয়ে। পরনে কালো শাড়ি,ঠোটে গোলাপী রঙের লিপস্টিক ও চোখ ভরতি কাজলে সত্যিই দারুণ লাগছে মেয়েটাকে।

♦তার ভিতর ভয়ও কাজ করছে খুব। যদি আবির ওকে ভালো না বাসে। ভয়ে ও টেনশনে তার পুরো মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে।

♦দশ মিনিট হয়ে গেলো এখনও আবির আসছেনা। তাহলে কি আবির আসবেনা????

♦প্রায় বিশ মিনিট পর রাস্তার ঐ পাশে দেখা যাচ্ছে আবিরকে। আবিরকে দেখে নিলীমা খুশিতে আত্তহারা।

♦ আবির রাস্তা পার হচ্ছে এমন সময় আবিরের হাতে থেকে কি যে রাস্তায় পরে যায়।আবির তখন রাস্তার ঠিক মাঝখানে। আবির তার হাতে থেকে পরে যাওয়া জিনিসটা উঠাচ্ছে। এমন সময় একটা ট্রাক এসে আবিরকে ছিটকে ফেলে দেয় প্রায় ৫-৬ হাত দূরে।

আবিরের রক্তমাখা দেহটা পরে আছে নিলীমার সামনে। আবিরকে চেনা যাচ্ছেনা। মনে হয় আবিরের মাথার কিছুটা অংশ চলে যায় ট্রাকটির সাথে। মায়াভরা সেই শান্ত ছেলেটির প্রানহীন দেহটা পরে থাকে।

আবিরের হাতে একটি লাল গোলাপ ছিলো। হয়তো আবিরও ভালোবাসতো নিলীমাকে। কিন্তু বলা হলোনা সেই ভালোবাসার কথা।

♦নিলীমা এতক্ষনে এখানে নেই। হয়তোবা নিলীমার দেহটাও ভেসে যাচ্ছে কোনো নদীর স্রোতের সাথে। অথবা কোনো গাছের সাথে ঝুলে আছে তার দেহটা। কারন ঐই দিনের পর থেকে নিলীমা যে আর বাসায় ফেরেনি।

♥♥ মরণের পর যদি বলতে পারে তাদের না বলা কথা ♥♥ তোকে অনেক ভালোবাসি।